বিশ্ববন্দিত এক মহানায়ক আজ দেশের পথপ্রদর্শক।
বর্তমানে তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। বৈশ্বিক সংকটের সমাধানে জীবন উৎসর্গ করে, মানবকল্যাণে নিবেদিত এ মহান মানুষ বিশ্বশান্তির দূত হিসেবে পরিচিত। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী হলেও তাঁর জীবনযাপন অত্যন্ত সাদামাটা ও সাধারণ।
এই মুহূর্তে তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রজ্ঞাবান ও শান্তিপ্রেমী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সংযম ও পরিমিতিবোধে তিনি সদা অবিচল। ক্লান্তিহীন পরিশ্রমের মাঝেও তাঁর মুখে সর্বদা হাসি লেগে থাকে। তিনি বিশ্বের মানুষের আশার আলো, পরিবর্তনের অগ্রদূত।
বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনের নায়ক হিসেবে যাঁদের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ, তিনি তাঁদের অন্যতম। তবুও তাঁর মাঝে নেই কোনো মোহ বা গর্ব। তিনি শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র বিশ্বের গৌরবের প্রতীক। তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বিশ্ব যখন হিংসা, বিভেদ, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটে বিপর্যস্ত, তখন তিনি আলোর মশাল হাতে এগিয়ে চলেছেন। তিনি বিশ্বমানবতার পথপ্রদর্শক। বাংলাদেশের জন্য এটি এক বিশাল সৌভাগ্য যে, এই বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব, মানবতার আলোকবর্তিকা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৮ আগস্ট, এক সংকটময় ও নাজুক পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাদেশের হাল ধরেন। গত ছয় মাস ধরে তিনি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশকে স্থিতিশীল করার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাঁর পাশে রয়েছে পুরো বিশ্ব। এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাদেশকে এক নতুন মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে, প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশকে ‘কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেই স্বপ্নদ্রষ্টাদের একজন, যাঁরা বিশ্ব বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদের ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ—বিশ্বব্যাপী আলোচিত এবং এখন বিশ্বশান্তির একটি কার্যকর রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত। নারীর ক্ষমতায়ন, তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগানো, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনিই অন্যতম পথপ্রদর্শক। তাঁর সামাজিক ব্যবসার ধারণা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সামাজিক ব্যবসার তত্ত্ব এখন ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের বহু দেশে এই মডেল সফলভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। আর এমন একজন দূরদর্শী ও মানবতাবাদী ব্যক্তি যখন বাংলাদেশের নেতৃত্বে আসেন, তখন এটি দেশের জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়।
ড. ইউনূসের জীবন অধ্যবসায়, গবেষণা ও জ্ঞাননির্ভর। তিনি শুধু একজন চিন্তক নন; বরং তাঁর আবিষ্কারের বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। প্রান্তিক ও মেহনতি মানুষের উন্নয়নের জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আজ তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হচ্ছে। বিশ্বের হতদরিদ্রদের জন্য তিনি যেমন আশার আলো, তেমনি বাংলাদেশের জন্য তিনি ‘লাইটহাউস’।
তাঁর জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি কখনো রাজনৈতিক ক্ষমতার পেছনে ছুটেননি, বরং মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবন পর্যন্ত তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের প্রেরণায় পরিচালিত। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিলাসী জীবন ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন প্রত্যন্ত গ্রামে, দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করতে।
জোবরা গ্রামে তিনি প্রথম যখন ক্ষুদ্রঋণের ধারণা বাস্তবায়ন করেন, তখন নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। নানান বাধা, নির্যাতন ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি অবিচল ছিলেন। কারণ, একজন মানুষ যদি মেধাবী, অধ্যবসায়ী এবং সততায় অবিচল থাকেন, তাহলে তাঁকে কোনো বাধাই লক্ষ্যচ্যুত করতে পারে না। ড. ইউনূস তাঁর জীবনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
তিল তিল করে গড়ে তোলা গ্রামীণ ব্যাংক আজ বাংলাদেশের প্রান্তিক দরিদ্র মানুষের জীবনে পরিবর্তন এনেছে। একসময় যাঁরা দারিদ্র্যের চক্রে আবদ্ধ ছিলেন, যাঁরা দুই বেলা দু'মুঠো খাবারের নিশ্চয়তা পেতেন না, তাঁদের স্বাবলম্বী করেছেন তিনি। ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের সন্তানরা শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে।
গ্রামীণ ব্যাংক শুধুমাত্র একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নয়; এটি সমাজ বদলের এক অনন্য শান্তির আন্দোলন।
দারিদ্র্যের কোনো সীমানা নেই, দারিদ্র্যের কোনো ভাষা নেই—এই বিশ্বাস থেকেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর গ্রামীণ ব্যাংকের ধারণা ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বজুড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস থেকে শুরু করে আফ্রিকা, জাপান, ইউরোপ এবং ভারতেও ক্ষুদ্রঋণ মডেল প্রসারিত হয়েছে। বিশ্বদারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামীণ ব্যাংক আজ এক অনন্য অনুকরণীয় মডেল। এই ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমেই প্রান্তিক মানুষের জীবন বদলে গেছে। না হলে দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি সহজ হতো না, এমনকি বিশ্ব আরও অনেক দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে পারত।
এই অসাধারণ অবদানের জন্যই ২০০৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, যা তিনিই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অর্জন করেন। তবে নোবেল পাওয়ার আগেই তিনি বিশ্বজুড়ে একজন আলোচিত, প্রশংসিত ও দৃষ্টান্তস্থাপনকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তাঁর উদ্ভাবিত ক্ষুদ্রঋণ মডেলের জন্য ১৯৮৪ সালে তিনি এশিয়ার ‘র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার’ লাভ করেন, যা এ অঞ্চলের নোবেল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে দরিদ্র নারীদের ক্ষমতায়নে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
গ্রামীণ ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি নারীর ক্ষমতায়নের এক নীরব বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের মালিকানা প্রদান করে, যা নারীদের শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেনি, বরং সমাজে তাদের অবস্থানও সুদৃঢ় করেছে। কর্মসংস্থানে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি, এটি বাংলাদেশের নারী জাগরণের পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ড. ইউনূসের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করে। তবে এটি শুধু তাঁর জন্য সম্মানের ছিল না, বরং এই পুরস্কারও তাঁর মাধ্যমে আরও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, দেশীয় রাজনৈতিক চক্রান্তে তাঁকে অপমান ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁকে খাঁচার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল, যা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
বিশ্ব কিন্তু তাঁকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করেছে। বিশ্বমানবতার জন্য তাঁর বহুমাত্রিক অবদান তাঁকে ‘নেশন বিল্ডার’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নেতৃত্ব গ্রহণের পর তিনি এক নতুন আশার প্রতীক হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’ তাঁকে ‘নেশন বিল্ডার’ খেতাবে ভূষিত করে এবং বিশ্বের সেরা ১০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় তাঁকে ৭ নম্বরে স্থান দেয়।
এছাড়াও, ড. ইউনূস বিশ্বের প্রভাবশালী মুসলিমদের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন। ‘দ্য মুসলিম ৫০০: দ্য ওয়ার্ল্ডস ৫০০ মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল মুসলিমস’ তালিকায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৫০তম স্থান অর্জন করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুধু একজন অর্থনীতিবিদ নন, তিনি এক নিরবিচার মানবতার দূত। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি আজও বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণার প্রতীক।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কর্মজীবনের কেন্দ্রবিন্দু মানবকল্যাণ। মানবকল্যাণের প্রতিটি শাখায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি একদিকে যেমন নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকারের লড়াইয়ে অগ্রপথিক, অন্যদিকে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন পৃথিবী গড়ার এক অনন্য কণ্ঠস্বর। তিনি বিশ্বাস করেন, তরুণরাই বিশ্ব বদলে দিতে পারে। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং এর স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ার্ল্ড ফুটবল সামিটের (WFS) আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর সৌদি আরবের জেদ্দায় এ পুরস্কার তাঁকে প্রদান করা হয়।
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা শুধু সম্মাননার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২১ সালে অলিম্পিক গেমসে তিনি ‘অলিম্পিক লরেল অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন—এই পুরস্কারটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, উন্নয়ন ও শান্তিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। টোকিওতে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মানে ভূষিত করা হয়। একই বছর, ৯ নভেম্বর জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের ‘চ্যাম্পিয়ন অব গ্লোবাল চেঞ্জ’ পুরস্কার পান তিনি, যা তাঁর বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন ও নারী ক্ষমতায়নের অগ্রণী ভূমিকার স্বীকৃতি। এই পুরস্কারটি যৌথভাবে পান বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. এনগোজি ওকনজো-ইওয়েইলা।
এছাড়া, ২০১৯ সালে ‘গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ অর্জন করেন তিনি। এটি শুধু তাঁর জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও এক বিরাট সম্মান। বিশেষ করে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এ স্বীকৃতি পাওয়া ছিল এক ঐতিহাসিক অর্জন। একসময় যেই দেশ বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল, সেই দেশই পরবর্তীতে ড. ইউনূসকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করে। এটি প্রমাণ করে যে, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই কেবল বাংলাদেশে নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবনে পরিবর্তন এনেছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মাননা
ড. ইউনূসের উদ্ভাবনী চিন্তা এবং মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে একাধিক মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:
- ১৯৮৯: দারিদ্র্য বিমোচন ও নারী ক্ষমতায়নের জন্য ‘আগা খান অ্যাওয়ার্ড’
- ১৯৯৩: ‘কেয়ার পুরস্কার’
- ১৯৯৪: গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকার জন্য ‘বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার’
- ১৯৯৫: সুইজারল্যান্ড থেকে ‘ম্যাক্স সছমিধেইনি ফাউন্ডেশন ফ্রিডম পুরস্কার’
- ১৯৯৬: ‘আন্তর্জাতিক সাইমন বলিভার পুরস্কার’
- ১৯৯৭: ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড সম্মেলন, জুরিখ সম্মাননা ও আন্তর্জাতিক অ্যাকটিভিস্ট পুরস্কার
- ১৯৯৭: ক্ষুদ্রঋণ ধারণার জন্য জার্মানির ‘প্লানেটরি কনশিয়াশনেস বিজনেস ইনোভেশন পুরস্কার’
- ১৯৯৭: নরওয়ের ‘হেলপ ফর সেলফ হেলপ’ পুরস্কার
- ১৯৯৭: ইতালির ‘ম্যান ফর পিস অ্যাওয়ার্ড’
- ১৯৯৭: যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশ্ব ফোরাম পুরস্কার’
বিশ্ব পরিবর্তনের অন্যতম অগ্রদূত
ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুধুমাত্র একজন অর্থনীতিবিদ নন, বরং একজন মানবতাবাদী বিপ্লবী। তাঁর চিন্তা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী শক্তি সাধারণ মানুষের জীবন বদলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাধারণত যেখানে মানুষের চিন্তার শেষ সীমানা, সেখান থেকেই শুরু হয় ড. ইউনূসের নতুন ভাবনা।
তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, বরং সমাজ বদলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছেন এবং তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ নতুন এক পরিচয়ে বিশ্ব দরবারে স্থান করে নেবে।